Saturday, March 23, 2019

শুরুতেই ধোনির কাছে কোহলির হার

শুরুতেই ধোনির কাছে কোহলির হার
আইপিএলের ‘এল ক্লাসিকো’ বলতে চেন্নাই সুপার কিংস বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ম্যাচের দিকেই ইঙ্গিত করেন অনেকে। বিরাট কোহলি বনাম মহেন্দ্র সিং ধোনি, ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম দুই ক্রিকেট তারকার লড়াইয়ে দর্শকদের বাড়তি আনন্দ পাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু কোহলি যেন ধোনির বিরুদ্ধে মাঠে না নামতে পারলেই বাঁচতেন! আজ চেন্নাইয়ে উদ্বোধনী ম্যাচে ধোনির দলের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে কোহলির বেঙ্গালুরু। এই নিয়ে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে টানা সাত ম্যাচ জয়হীন বেঙ্গালুরু।কাপটা কে জিতবে, তা ভবিষ্যতের জন্য তোলা থাক। তবে প্রথম ম্যাচে হেরে পিছিয়ে গেলেন বিরাট কোহলি। ছবি: এএফপিকাপটা কে জিতবে, তা ভবিষ্যতের জন্য তোলা থাক। তবে প্রথম ম্যাচে হেরে পিছিয়ে গেলেন বিরাট কোহলি। ছবি: এএফপি
টিবি স্ক্রিনে বারবার ভেসে উঠছিল কোহলির হতাশার মুখটা। সুরেশ রায়না বা অম্বাতু রায়াডুর একেকটা রান যেন তাঁর বুকে শেল হয়ে বিধছিল। অবশ্য ৭০ রানের পুঁজিতে আর কিই বা করার ছিল বেঙ্গালুরুর বোলারদের। চেন্নাইয়ের ব্যাটসম্যানদের শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে ভোগানো গিয়েছে, এই যা সান্ত্বনা। কিন্তু ম্যাচটা ধীরে ধীরে নিজেদের করে নেন রায়না ও রায়াডু। শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য ৭১ রানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে ১৭.৪ ওভার খেলে চেন্নাই। সর্বোচ্চ ২৮ রান আসে রায়াডুর ব্যাট থেকে। আর ধোনিকে তো ব্যাট হাতে নামতেই হয়নি। অন্যদিকে ১২ বল খেলে মাত্র ৬ রান করেছেন কোহলি।

দলীয় ৮ রানে শেন ওয়াটসন ফিরে গেলে রায়নার সঙ্গে ৩২ রানের জুটি গড়েন রায়াডু। এতেই জয়ের জন্য ভালো ভিত গড়ে ফেলে চেন্নাই। দলীয় ৪০ রানের সময় রায়না (১৯) ফিরে গেলেও বাকি কাজটা সেরেছেন রায়াডু ও কেদার যাদভ। রায়াডু ব্যক্তিগত ২৮ রানে ফিরে গেলেও ১৩ রানে নটআউট ছিলেন যাদভ।

এর আগে ভয়ংকর ব্যাটিং প্রদর্শনী দিয়ে ২০১৯ সালের আইপিএল শুরু হয়েছে। মাত্র ৭০ রানে অলআউট হয়েছে বেঙ্গালুরু। প্রথমেই মনে জেগে ওঠা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাক। না, এটা আইপিএলের সর্বনিম্ন স্কোর নয়। এমনকি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোরও নয়। ওতেই যে অনন্য অর্জনটা হলো না। আইপিএলের সর্বোচ্চ স্কোর বেঙ্গালুরুর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানও তাদের। সর্বনিম্ন রানের রেকর্ডও (৪৯) নিজেদের দখলেই রেখেছে তারা। শুধু দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড রাজস্থান রয়্যাল (৫৮) নিজেদের কাছে রেখেছে। আজ ইনিংসের অনেক দীর্ঘ একটা সময় সেটা নিজেদের কাছে নেওয়ার ভয় দেখাচ্ছিল বেঙ্গালুরু। ভাগ্যিস, পার্থিব প্যাটেলের অমন রেকর্ড গড়তে আপত্তি জেগেছে।

ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে দলের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরেছেন প্যাটেল। এ দীর্ঘ সময় মাঠে থেকেও তাঁর নামের পাশে মাত্র ২৯ রান। বলের সংখ্যা (৩৫) এর চেয়েও বেশি। তবু এই ইনিংসের জন্যই প্যাটেলের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে দল। প্যাটেলের সুবাদেই যে নিজেদের রেকর্ড নতুন করে লিখতে হয়নি তাদের। দলের ১৬ রানে ফিরে গেছেন কোহলি। তখন কে জানত, উদ্বোধনী জুটিই ইনিংসের সেরা হবে! একের পর এক ব্যাটসম্যান এসেছেন আর চেন্নাইয়ের স্পিনারদের সামনে নাকানিচুবানি খেয়েছেন। হরভজন সিং (৩ উইকেট), ইমরান তাহির (৩), রবীন্দ্র জাদেজাদের (২) বলের স্পিন, বাউন্স কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি দলটি। তারই ফল ১৭ বল হাতে রেখে ৭০ রানে অলআউট হয়ে যাওয়া। অবশ্য এমন ভয়ংকর ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পরও সর্বনিম্ন রানের শীর্ষ পাঁচ এড়াতে পেরেছে তারা, এটাই সান্ত্বনা!

১৬ বছর বয়সে দাবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেন ফাহাদ রহমান।

১৬ বছর বয়সে দাবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেন ফাহাদ রহমান।
প্রতিভা থাকলে ঠেকায় কে! বাংলাদেশের দাবাড়ু ফাহাদ রহমানকেই দেখুন। এশিয়ান জোনাল ৩.২ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের ওপেন বিভাগে চমক দেখিয়েছেন সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ফিদেমাস্টার ফাহাদ। ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে টাইব্রেকিং পদ্ধতিতে শিরোপা জয় করে পেয়েছেন বিশ্বকাপের টিকিট। এর ফলে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ দাবাড়ু হিসেবে আগামী নভেম্বরে রাশিয়ায় দাবা বিশ্বকাপে খেলতে যাবেন এই কিশোর।
কী নাটকীয়তায়ই না বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছেন ফাহাদ। ক্ষণে ক্ষণে বদলেছে টুর্নামেন্টের রং। ষষ্ঠ রাউন্ড পর্যন্ত আধা পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। তাঁকে সরিয়ে শীর্ষে চলে আসেন আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব। কাল নবম অর্থাৎ শেষ রাউন্ডে আধা পয়েন্ট এগিয়ে থাকা রাজীবের প্রয়োজন ছিল জয়। তাহলেই চ্যাম্পিয়ন হন এশিয়ান ৩.২ অঞ্চলে। কিন্তু রাজীব কাল হেরে যান শেষ দিকে দারুণভাবে ফিরে আসা গ্র্যান্ডমাস্টার রিফাত বিন সাত্তারের কাছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল রিফাতেরও। তবে এই দুজনকে ছাপিয়ে শেষ বেলার চমকে চ্যাম্পিয়নের নাম ফিদে মাস্টার ফাহাদ রহমান। এতে সরাসরি ফিদে মাস্টার থেকে হয়ে গেলেন আন্তর্জাতিক মাস্টার। 

শেষ রাউন্ডে কালো নিয়ে ৪১ চালে ফাহাদ হারিয়েছেন ফিদে মাস্টার মেহেদি হাসান পরাগকে। তুলনামূলক সহজ ম্যাচ ছিল এটি তাঁর জন্য। ফাহাদ কাজের কাজটা করেছেন আসলে অষ্টম রাউন্ডে গ্র্যান্ডমাস্টার আবদুল্লাহ আল রাকিবকে হারিয়ে। তার পরও কাল রাজীব জিতলে ফাহাদ নন, রাজীবই চ্যাম্পিয়ন হতেন। কিন্তু রাজীব হেরে গেছেন রিফাতের কাছে। তৃতীয় হয়েছেন রাজীব। ৯ ম্যাচে ফাহাদের পয়েন্ট ৭। রিফাতেরও পয়েন্ট ৭। তবে দুজন যাঁদের বিপক্ষে খেলেছেন, তাঁদের গড় রেটিং হিসেবে ফাহাদ বেশি রেটিংয়ের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলেছেন। তাই তিনি চ্যাম্পিয়ন।

নিজেদের দিনে বাংলাদেশ কতটা ভয়ংকর হতে পারে শেবাগ সেটি ভালো করেই জানেন

বিশ্বকাপের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে গেছে। দুই মাস পর ইংল্যান্ডে শুরু হবে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই।



 কার হাতে উঠবে আরাধ্য শিরোপা—জানা যাবে ১৪ জুলাই লর্ডসের ফাইনাল শেষে। তবে কোন দল কেমন, সেটি এখনই বলা যায়। এবার অংশ নেওয়া ১০ দল নিয়ে যেমন বললেন বীরেন্দর শেবাগ।

ফেসবুকে নিজেদের পেজে একটা ভিডিও প্রকাশ করেছে আইসিসি। সেখানে শেবাগ এক বাক্যে বলছেন প্রতিটি দল নিয়ে। অস্ট্রেলিয়া দলটা কেমন? বিরুর জবাব—'ভয়ংকর!' তবে সবচেয়ে সেরা বিশেষণ তিনি বাংলাদেশের পাশেই ব্যবহার করেছেন। বাংলাদেশ দলকে তুলনা করেছেন বাঘের সঙ্গে। ব্রাজিল ফুটবল দল যেমন 'সেলেসাও', স্পেন 'লা রোজা'; ক্রিকেটে বাংলাদেশ পরিচিত 'দ্য টাইগার্স' নামে। নিজেদের দিনে বাংলাদেশ কতটা ভয়ংকর হতে পারে শেবাগ সেটি ভালো করেই জানেন। পোর্ট অব স্পেনে ২০০৭ বিশ্বকাপে সেই হারটা ভারতীয় ওপেনারের স্মৃতিতে ভালো করেই থাকার কথা। বাংলাদেশকে নিয়ে শেবাগের মূল্যায়ন, 'তারা বাঘের মতো, নিজেদের দিনে ভালো শিকার করতে পারে।'

মজাটা হচ্ছে, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের আগে শেবাগ বলেছিলেন, 'এই দলটা খুবই অর্ডিনারি।' তাঁর এ মন্তব্যে নিয়ে কম আলোচনা-সমালোচনা হয়নি তখন! সময়ের সঙ্গে ধারণা পাল্টেছে, এখন বাঘের তকমা ব্যবহার করছেন শেবাগ। বাংলাদেশ তো আছেই। বাকি ৯ দল নিয়ে বিরু কী বলেছেন, একবারে দেখে নেওয়া যেতে পারে—

অস্ট্রেলিয়া: ভয়ংকর

বাংলাদেশ: বাঘের মতো, নিজেদের দিনে ভালো শিকার করতে পারে।

পাকিস্তান: অননুমেয়

ইংল্যান্ড: বিশ্বকাপ জেতার ভালো সম্ভাবনা আছে তাদের

নিউজিল্যান্ড: আন্ডারডগ

শ্রীলঙ্কা: ভালোবাসা যায়

দক্ষিণ আফ্রিকা: আশা করি ভালো করবে

আফগানিস্তান: নিজেদের সেরা দিনে যেকোনো দলকেই হারাতে পারে

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: খুবই ভয়ংকর দল

ভারত: যদি ভালো খেলে যেকোনো দলকেই হারাতে পারে

Friday, March 23, 2018

এমন কিছুও সম্ভব!

  •  ৪০০ মিটারের হিটে অংশ নেওয়া সবাই ডিসকোয়ালিফাইড হয়েছেন!
  •  ফেবারিট ব্রালোন ট্যাপলিনও ছিলেন এ হিটে।
  •  ইনডোর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের এ ঘটনা অ্যাথলেটিকসের ইতিহাসেই প্রথম।
এক হিটে দৌড়ালেন ৫ জন। দৌড় শেষ হওয়ার পর দেখা গেল কারও মুখেই হাসি নেই। সবার আগে দৌড় শেষ করা ট্যাপলিনের মুখেও না। কারণ সবাই যে ডিসকোয়ালিফাইড হয়েছেন! এমনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা জন্ম দিয়েছে ইনডোর বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ। এমন ঘটনা অ্যাথলেটিকসের ইতিহাসেই প্রথম বলে স্বীকার করে নিয়েছে আইএএএফ।
২০১৮ সালের ইনডোর বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ চলছে বার্মিংহামে। ৪০০ মিটারের তৃতীয় হিটে নজর ছিল সবার। এ বছর টাইমিংয়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন যিনি, সেই ব্রালোন ট্যাপলিন যে ছিলেন এই হিটে। সোনা জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে আশা ট্যাপলিন ছাড়াও ছিলেন ২০১৬ সালে ইনডোরে রুপা জয়ী ও ২০১৭ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জজয়ী আবদালেলাহ হারুন।

শুরুতেই গন্ডগোল। 

‘সাকিব ফিরলে এই অস্থিরতা থাকবে না’

  • সাকিবের ফিরলে সমস্যা কেটে যাবে, মাশরাফির আশাবাদ
  • ২৮ ক্রিকেটার খেলানো অস্থার অভাবের কারণে মনে করেন না তিনি
  • তরুণদের নিয়ে আশাবাদী মাশরাফি
  • ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮২ রানে অলআউট হওয়াটা বড় ধাক্কা
পরশু ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসানের কথায় ইঙ্গিত ছিল, চাইলেই টি-টোয়েন্টিতে ফিরতে পারেন মাশরাফি। সঙ্গে সঙ্গেই ‘মাশরাফি ফিরবেন কি ফিরবেন না’ তুমুল আলোচনা। কাল মিরপুরে আবাহনীর অনুশীলনের পর মাশরাফিকে পেয়ে সংবাদমাধ্যমের মূল কৌতূহলও এ নিয়েই। মাশরাফি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাদা করে কথা বললেন ঠিকই, কিন্তু প্রথমেই জানিয়ে দিলেন, ‘ফেরা’ প্রসঙ্গে কোনো প্রশ্ন নয়। তবে কথা বললেন দেশের ক্রিকেটের বর্তমান হতাশা আর তা থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে।
প্রশ্ন: দেশের মাঠে অপ্রতিরোধ্য দল বলে বাংলাদেশের যে একটা গর্ব ছিল, সেটা কি এই এক মাসে ম্লান হয়ে গেল?
মাশরাফি বিন মুর্তজা: এই একটা সিরিজ দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না। কিছুটা অন্যায়ও হবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও আমরা সিরিজ হেরেছিলাম, আফগানিস্তানের সঙ্গে একটা ম্যাচ হেরেছিলাম। কিন্তু ওই সময় অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছিলাম ঘরের মাঠে, প্রতিনিয়ত পারফরম করার সুযোগ ছিল। এখানে আমরা পাঁচটি ওয়ানডে খেলেছি, এটা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। টেস্ট সিরিজ, টি-টোয়েন্টিতেও হেরেছি। তবে সর্বশেষ চার-পাঁচ মাস আমরা আমাদের মতো পারফরম করতে পারিনি, দক্ষিণ আফ্রিকায়ও পারিনি। আমাদের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করে ফিরে আসার চেষ্টা করতে হবে।
প্রশ্ন: ত্রিদেশীয় সিরিজের পর টেস্ট আর টি-টোয়েন্টিতে কি বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়ে গেছে বলেই অচেনা মনে হচ্ছে বাংলাদেশকে?
মাশরাফি: ওয়ানডেতে কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছিল না। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে সাকিব খেলতে না পারার পর থেকেই মূলত ওটা শুরু হয়েছে। সাকিবের অভাব পূরণ করতে গেলে এমনিতেই দুজন খেলোয়াড় লাগে। ওই দুজন মিলেও সাকিবের মতো হবে কি না, সেটাও চিন্তার বিষয়। সবকিছু মিলেই কিন্তু একটা অস্থিরতা তৈরি হয়।
প্রশ্ন: ত্রিদেশীয় সিরিজ আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ মিলিয়ে ২৮ জন ক্রিকেটারকে খেলানো হয়েছে। এটাকে কি ক্রিকেটারদের ওপর আস্থার অভাব বলবেন?
মাশরাফি: আমার সেটা মনে হয়নি। কারণ, আমি টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগেই শুনেছিলাম, কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া হবে। ২০২০ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে, আমাদেরও কিছু ঘাটতি আছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারের। এখন থেকে গুছিয়ে নেওয়ার একটা চেষ্টা ছিল। এ পর্যন্ত বার্তাটা সবাই ঠিকঠাকই পেয়েছে। বাড়তি যেটা যোগ হয়েছে, সেটা সাকিবের চোটের কারণে। সাকিবের অভাব পূরণে দুজন লেগেছে, দুজন করে নতুনকে দেখতে চাওয়া হয়েছিল। সবকিছু মিলে একটা অস্থিরতা গিয়েছে। সাকিব ফিরলে এই অস্থিরতা থাকবে না। এখন পারফরম্যান্সের দিকে মনোযোগী হওয়াটাই জরুরি।
প্রশ্ন: ছয় ক্রিকেটারের অভিষেক হলো টি-টোয়েন্টি সিরিজে। কতটুকু প্রতিশ্রুতিশীল মনে হয়েছে তাঁদের দেখে?
মাশরাফি: এক ম্যাচ দেখে আসলে প্রতিভা নিয়ে কথা বলাটা কঠিন। প্রতিভা আছে বলেই তারা জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছে। তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কী। স্টেডিয়ামভর্তি মানুষ, পরিবার, নিজের প্রত্যাশা মিলিয়ে যে একটা স্নায়ুচাপ তৈরি হয়, সেটা নিশ্চয়ই টের পেয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতেই যেহেতু এটা বুঝতে পেরেছে, সেভাবেই নিশ্চয় নিজেদের তৈরি করবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ দলে আসার জন্য অপেক্ষমাণ খেলোয়াড়দের নিয়ে কতটা আশাবাদী আপনি?
মাশরাফি: আমরা খুব দ্রুত আশাবাদী হই, খুব দ্রুতই আবার হতাশ হই। আমি আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল নিয়ে আশাবাদী। হয়তো ওরা এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত নয়। এই ১৮-১৯ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসলেই কঠিন। যদি না আপনি সাকিব-তামিমের মতো হন। তারাও অবশ্য তখন এখনকার মতো ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নতি করেছে, বিশ্বসেরাদের কাতারে নিজেদের নিয়ে গেছে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলই আমাদের ভবিষ্যৎ। আমাদের কাজ হচ্ছে তাদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে প্রস্তুত করে তোলা, যাতে লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তো শ্রীলঙ্কান স্পিনারদের সামনেই ধসে পড়লেন। অথচ আমাদের তো স্পিন খেলে অভ্যাস আছে...
মাশরাফি: শেন ওয়ার্ন বা মুত্তিয়া মুরালিধরনের সামনে আমাদের কিন্তু সংগ্রামই করতে হয়েছে। স্পিন যে আমরা খুব ভালো খেলি, সেটা কিন্তু নয়। ভালো উইকেটে হয়তো আমরা স্পিন ভালো খেলি। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের সঙ্গে যেমন খেলেছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম সেঞ্চুরি করল, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮০ (দুই ইনিংসে ৭১ ও ৭৮) করল। এ রকমই কিছু ইনিংসে আমরা জিতেছিলাম। এই সিরিজে দৃশ্যপটটা অন্য রকম ছিল। শুধু তামিমের কাছ থেকে আশা করে গেলেও তো কঠিন। সাকিব থাকলে হয়তো অন্য রকম হতে পারত। আমরা সে সুযোগটা পাইনি তার চোটের কারণে। আমাদের জন্য একটা হতাশাজনক সময় গিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাসী যে, এটা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব। প্রশ্ন হচ্ছে, কত দ্রুত আমরা সেটা পারব?
প্রশ্ন: প্রতিপক্ষ বিবেচনায় নিয়ে উইকেট তৈরি করা হয়। যে উইকেটে সারা বছর হয়তো ক্রিকেটাররা খেলেন না। সেই উইকেটগুলো ঘরোয়া ক্রিকেটেও থাকাটা জরুরি কি না?
মাশরাফি: ঘরোয়া ক্রিকেটে এক রকম উইকেটই বানাতে পারবেন, সেটা হচ্ছে স্পিন-সহায়ক উইকেট। বাংলাদেশের আবহাওয়ার কারণে আপনি চাইলেও পেস বোলিং সহায়ক উইকেট তৈরি করতে পারবেন না। তৈরি করলেও সেটা হয়তো দুই ঘণ্টা পেসারদের সহযোগিতা করবে। এরপরই আবহাওয়ার বদলের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করা শুরু করবে। যেটা হতে পারে, সেটা হলো স্পিনিং ট্র্যাক, যেহেতু আমরা ঘরের মাটিতে ওই ধরনের উইকেটে খেলি। তা ছাড়া অনুশীলনের জন্য আপনি পেস-সহায়ক উইকেট তৈরি করতে পারেন। চার দিনের ম্যাচে এগুলো করা কঠিন।
প্রশ্ন: কদিন পরই শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফি। এখন যা অবস্থা, তাতে দল কীভাবে অনুপ্রাণিত হতে পারে?
মাশরাফি: সাকিব ফিরে আসবে, এটা আমাদের জন্য সুসংবাদ। তার মানে এই নয় যে সাকিব ফিরলেই আমরা সব ম্যাচ জিতে যাব। তবে আমার বিশ্বাস, আগামী তিন-চার মাস পর আমাদের যে খেলাগুলো আছে, সেগুলোতে আমরা ভালো করতে পারব। তবে সে জন্যও আমাদের অনেক কষ্ট করতে হবে।
প্রশ্ন: ক্রিকেটারদের চিন্তার মধ্যে কোনোভাবে হাথুরুসিংহে রয়ে গিয়েছিলেন কি? যেহেতু তিনি অনেক কিছুই জানতেন তাঁদের সম্পর্কে?
মাশরাফি: ওয়ানডে সিরিজ পর্যন্ত যতটুকু আমি ছিলাম, ড্রেসিংরুমে কারও চিন্তায় হাথুরু ছিলেন না। কিন্তু সবার মনের ভেতরে ঢুকে তো বলা কঠিন যে হাথুরু কাজ করছেন কি না? হয়তো আমরা খুব কঠিন সময় পার করেছি দক্ষিণ আফ্রিকায়। তারপর তো তিনি চলেই গেলেন। বিসিবিও অনেক চেষ্টা করেছে রাখার, তিনি তাঁর দেশের হয়ে কোচিং করাতে চেয়েছেন। তাঁর জায়গা থেকে ঠিকই আছেন হয়তো-বা। সবাই নিজের দেশের প্রতিনিধিত্বই করতে চায়।
প্রশ্ন: বোর্ড সভাপতি বলেছেন, এই সিরিজে একজন হেড কোচের অভাব তিনি অনুভব করেছেন। ড্রেসিংরুমে কি সেই অভাবটা বোধ করেছিলেন?
মাশরাফি: ক্রিকেটে একজন হেড কোচ তো থাকেনই। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রিকেটাররা খেলে। হাথুরুসিংহে যখন চলে যান, তখন সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছিল তাঁকে রাখার। তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ার পর কয়েকজনের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছিল। চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু হয়তো সম্ভব হয়নি কোনো কারণে। ওই সময় বলতে পারেন কোচিং নিয়ে একটা বিপদেই ছিল বাংলাদেশ। তারপর তো সুজন ভাই (খালেদ মাহমুদ) টিম ডিরেক্টর হলেন। তারপরও আমরা কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। প্রথম তিনটা ম্যাচ আমরা ঠিক পথেই ছিলাম। হয়তো-বা চার নম্বর ম্যাচটায় ৮০ রানে (আসলে ৮২) অলআউট হওয়াটা আমাদের বড় একটা ধাক্কা দিয়েছে। তারপর থেকে পুরোটা সময়ই আমাদের কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। আমাদের যখনই যে কোচ দেওয়া হয়েছে, তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি।

ফেদেরারের চোখ ১০০–তে

সেমিফাইনালে উঠেই র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছেন, তবে ফাইনাল জেতাই তাঁর মূল লক্ষ্য, সেটা জানা কথা। তবে ২০ ঘণ্টারও কম সময়ে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলার ধকল কতটা নিতে পারবেন, তার সংশয় ছিল। তবে সে সংশয় দূর করে রজার ফেদেরার তাঁর ক্যারিয়ারের ৯৭তম ট্রফি জিতে নিয়েছেন।
৩৬ বছর বয়সে এসেও চুল পরিমাণ সুযোগ দেননি গ্রিগর দিমিত্রভকে। বুলগেরিয়ার খেলোয়াড়কে ৬-২, ৬-২ গেমে হারিয়ে রটারডাম ওপেনের ট্রফি নিজের করে নিয়েছেন ফেদেরার। ক্যারিয়ারে ২০টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ফেদেরারের কাছে একেই জীবনের অন্যতম সেরা সপ্তাহ মনে হচ্ছে। ফেদেরারের মতো খেলার ধরন বলে দিমিত্রভকে ‘বেবি ফেদেরার’ ডাকা হতো একসময়। তবে ফাইনালে ‘বেবি’ পাত্তা পাননি আসল ফেদেরারের কাছে। অথচ এ টুর্নামেন্ট জেতার আশাও করেননি ফেদেরার, ‘আমার মূলত লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল খেলা। ফাইনাল জেতার পর অবশ্যই ভালো লাগছে।’
২০১২ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এলেন ফেদেরার। ছয় বছর পরে সেরা হওয়ার অনুভূতিই অন্য রকম ছিল, ‘ছয় বছর পর সেরা হওয়া আমার নিজের কাছে অবিশ্বাস্য ছিল। আমি সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলাম ফাইনালের জন্য। বছরের শুরুটা আমার জন্য দুর্দান্ত হয়েছে। তবে প্রথম স্থানে আসার পর কিছুটা নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছিল। তবে তা খুব সহজেই সামলে উঠেছি।’
প্রতিপক্ষ দিমিত্রভের প্রশংসাও করলেন ম্যাচ শেষে, ‘ও অনেক ভালো খেলোয়াড়। তবে আমি আরেকটু ভালো ম্যাচ আশা করছিলাম। মাঝে ওকে একটু খাপছাড়া লাগছিল। তবে ও ভবিষ্যতে অনেক ভালো করতে পারবে।’
পূর্ণাঙ্গ এক ক্যারিয়ারে এখন ফেদেরারের চাওয়া ট্রফির সেঞ্চুরি। তবে ১০০ ট্রফির জন্য এখনো অনেক কষ্ট করতে হবে, স্বীকার করলেন টেনিস রাজা, ‘১০০ এখনো হয়নি, আরও বাকি আছে। আমার মূল লক্ষ্য থাকবে সুস্থ থেকে এগিয়ে যাওয়া।’ তাঁর চোখ যে জিমি কনর্সের গড়া ১০৯ ট্রফির রেকর্ডের দিকে, তা নিশ্চয় বলা লাগছে না!

রোনালদো ‘কিলার’, মেসি পরিপূর্ণ

জিয়ানলুইগি বুফনের চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ ছিল গতবার। কিন্তু তাঁর স্বপ্নের সফল পরিণতি হতে দেননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কোয়াটার ফাইনালে লিওনেল মেসিকে হারিয়ে এলেও ফাইনালে রোনালদোকে পরাস্ত করতে পারেননি বুফন।
চলতি মৌসুমে অবশ্য লিওনেল মেসি অবশ্য বদলা নিয়েছেন। গ্রুপে মুখোমুখি হয়ে ২ গোল হজম করতে হয়েছে বুফনকে। আর এবারও কোয়াটার ফাইনালে বুফনকে বড় পরীক্ষা দিতে হবে। এবার তাঁর সামনে রোনালদো। আজ রাতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মেসির মুখোমুখি হতে হবে ইতালির বুফনকে। এর আগে রোনালদো-মেসির মধ্যে তুলনা করেছেন ইতালির অধিনায়ক।

রোনালদো-মেসিকে পুরোপুরি আলাদা ধরনের খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করেছেন বুফন, ‘দুজনই পুরোপুরি আলাদা খেলোয়াড়। মেসি একজন পরিপূর্ণ খেলোয়াড়, সে নিচ থেকে খেলাটা তৈরি করে। ওর টেকনিক্যাল কোয়ালিটি এবং খেলা বোঝার চোখ অনেকটা ত্রেকোয়েস্তার মতো (একজন ফিনিশারের চেয়ে)। অন্যদিকে হয়তো বয়স বাড়ায় রোনালদো এখন পেনাল্টি বক্স কিলারে বদলে গেছে। আগের চেয়ে সে এখন শক্তি জমিয়ে রাখতে চায়। এখন তার নাটমেগ কিংবা ট্রিকশট খেলার বয়স বা শক্তি, কোনোটিই নেই। তবে ডি-বক্সের আশপাশে বল পেলে সেই বল থেকে গোল করা এখন তার জন্য অত্যন্ত সোজা।’
রোনালদো-মেসি এই মৌসুমে নিজেদের সেরা খেলা দিচ্ছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে ১২ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো। লিগেও প্রথম দিকে বাজে শুরুর পরেও আবার লড়াইয়ে ফিরে এসেছেন রোনালদো। লিওনেল মেসি অবশ্য শুরু থেকেই ফর্মে আছেন। লা লিগাতে করেছেন ২৫ গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগেও ৬ গোল।

আজ টিভিতে যে খেলা দেখতে পাবেন


আজ টেলিভিশনের পর্দায় যে খেলাগুলো উপভোগ করবেন:

অদ্ভুতুড়ে কিছু হলেই কেবল জিম্বাবুয়ে বিশ্বকাপে!

  • গতকাল আরব আমিরাতের কাছে হেরে বাছাইপর্বে বাদ পড়া প্রায় নিশ্চিত করেছে জিম্বাবুয়ে
  • ক্ষীণতম আশা হয়ে আছে চলমান আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে। কিন্তু ম্যাচটি হতে হবে টাই
  • প্রথমে ব্যাট করে আয়ারল্যান্ড ৭ উইকেটে তুলেছে ২০৯ রান
বিশ্বকাপের পথ সবচেয়ে সহজ পথে ছিল জিম্বাবুয়ে। সুপার সিক্সে তিন ম্যাচের দুটি জিতলেই অন্য কোনো দিকে না তাকিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত হতো তাদের। আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে কাজটা এগিয়ে ফেলেছিল অনেকটা। কিন্তু সুপার সিক্সের সবচেয়ে দুর্বল দল সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে হেরে গেছে কাল। ফল, বিশ্বকাপে যাওয়ার স্বপ্নটা এক কথায় ছুড়ে ফেলে দিয়েছে তারা। কিন্তু বিশ্বকাপের দরজা কি আসলেই বন্ধ হয়ে গেছে তাদের?
বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আজ মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলছে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। এ ম্যাচের বিজয়ী দল সরাসরি বিশ্বকাপে চলে যাচ্ছে। আর পরাজিত দল পাবে ‘এত কাছে তবু কত দূরে’র স্বাদ। তবু এ ম্যাচের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে জিম্বাবুয়ে। কারণ, এ ম্যাচে অদ্ভুতুড়ে কিছু ঘটলে বিশ্বকাপে যাবে জিম্বাবুয়ে! কিন্তু এর জন্য যে ঘটনা ঘটতে হবে, তার সম্ভাবনা ১ শতাংশেরও কম।
বাছাইপর্বে শেষ দিকের সব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই বৃষ্টি ভূমিকা রেখেছে। আজ আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান ম্যাচে এখনো বৃষ্টি হানা দেয়নি। ম্যাচটা বৃষ্টিতে ভেসে গেলে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান ১ পয়েন্ট করে পাবে। তখন আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ড—চার দলেরই তখন ৫ পয়েন্ট হবে। এদের মধ্যে ০.২৪৩ রানরেট নিয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে স্কটল্যান্ড। এর ওপরে আছে আফগানিস্তান (০.৩৪৩)।
জিম্বাবুয়ের রানরেট বেশ ভালোই (০.৪২)। কিন্তু আয়ারল্যান্ড এখানে সবচেয়ে এগিয়ে আছে (০.৪৭৪)। তাই ম্যাচ বৃষ্টির কারণে বাতিল হলে লাভ হবে আয়ারল্যান্ডের। জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে টপকে বিশ্বকাপে যাবে আইরিশরা।
কিন্তু আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ড ম্যাচটা টাই হলে সব হিসেব বদলে যাবে। ম্যাচ টাই হওয়ায় আয়ারল্যান্ডের রানরেট তখন কমে যাবে (০.৩৯৭)। আর তখন দুর্দান্ত এক ম্যাচ দেখার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপে যাওয়ার উল্লাসে মাতবে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৫টি ম্যাচ হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি ম্যাচ হয়েছে টাই। সেই অদ্ভুতুড়ে ঘটনা যদি আজ আবার ঘটে, জিম্বাবুয়ে চলে যাবে বিশ্বকাপে! না হলে ৩৬ বছর পর জিম্বাবুয়ে-বিহীন একটি বিশ্বকাপ দেখতে হবে ২০১৯ সালে।