Thursday, March 22, 2018

বোনাসে অকৃপণ অথচ পাওনা বকেয়া জাতীয় লিগে!

জাতীয় লিগ শেষ হয়েছে তিন মাস হলো, এখনো পারিশ্রমিক পাননি খেলোয়াড়েরা
• জাতীয় লিগের মাঝে হয়েছে বিপিএল, পরে হয়েছে বিসিএল, এখন চলছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ
• জাতীয় লিগের পারিশ্রমিক পেতে যতটা অপেক্ষা করতে হয়, অন্য লিগগুলোয় সেটি নয়
জাতীয় লিগ শুরু হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে, পাঁচ রাউন্ড শেষে প্রায় দেড় মাসের বিপিএল-বিরতি। শেষ রাউন্ডটি হয়েছে ডিসেম্বরে। দেশের প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটের এই লিগ শেষ হয়েছে তিন মাস হলো। এখনো পারিশ্রমিক পাননি খেলোয়াড়েরা।
জাতীয় লিগের মাঝে হয়েছে বিপিএল, পরে হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)। এখন চলছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ, বিপিএল-বিসিএলে পারিশ্রমিক নিয়ে এবার অভিযোগ শোনা যায়নি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। বিপিএল-বিসিএল দুটিই ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট বলে দ্রুতই পারিশ্রমিক পরিশোধ করা হয়। ঢাকা লিগে এবার পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে বিপিএলের নিয়মে। দেরি হচ্ছে শুধু জাতীয় লিগে।

জাতীয় লিগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন খুলনা বিভাগের এক খেলোয়াড় বললেন, ‘জাতীয় লিগের ম্যাচ ফি পেতে প্রতিবারই প্রায় পাঁচ-ছয় মাস লেগে যায়। অনেক সময় টাকা পেতে পেতে পরের জাতীয় লিগের সময় হয়ে আসে। অথচ বিপিএল-বিসিএলে এ সমস্যাটা দেখা যায় না। লিগ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পারিশ্রমিক পেয়ে যান খেলোয়াড়েরা। দুই মাস আগে বলা হয়েছিল, সব প্রস্তুত, যার যার ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে। এখনো আসেনি।’

এবার জাতীয় লিগে ২৫ হাজার টাকা থেকে ম্যাচ ফি ৩৫ হাজার করা হয়েছিল (প্রতিবেশী ভারতের রঞ্জি ট্রফির চেয়েও যদিও অনেক কম)। লিগ শেষে কে কত ম্যাচ খেলেছেন সেটি হিসাব করে একবারে ম্যাচ ফি দেয় বিসিবি। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধে বিসিবির দীর্ঘসূত্রতা যে নতুন নয়, সেটি খেলোয়াড়ের কথাতেই বোঝা গেল। জাতীয় দল ভালো খেললে কোটি টাকার বোনাস থাকে। বিপিএল, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও টাকার ছড়াছড়ি। অথচ যে লিগ বাংলাদেশের ক্রিকেটের মূল ভিত্তি, সেখানেই পারিশ্রমিক পেতে খেলোয়াড়দের অপেক্ষা করতে হয় দিনের পর দিন।

অবশ্য বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটি সূত্রে জানা গেল, এবার দ্রুতই নাকি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা ছিল। সমস্যাটা হয়েছে অন্য জায়গায়। টুর্নামেন্ট কমিটির এক কর্মকর্তা বললেন, ‘লিগ শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে সাধারণত টাকাটা চলে যায়। এবার যে সমস্যাটা হয়েছে, আমরা সবার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগে দিতাম অ্যাকাউন্ট-পে চেক। এবার সব খেলোয়াড়ের অ্যাকাউন্ট নাম্বার জোগাড় করতেই একটু দেরি হয়েছে। অনেক খেলোয়াড়ের অ্যাকাউন্ট নাম্বারও ছিল না। আর বিসিবির যাঁরা চেক অনুমোদন করবেন তাঁদের বেশির ভাগই মাঝে শ্রীলঙ্কায় ছিলেন (নিদাহাস ট্রফি দেখতে)। একটু দেরি হচ্ছে এ কারণেই। সব তৈরি হয়ে গেছে, আগামী সপ্তাহে আশা করি খেলোয়াড়েরা টাকা পেয়ে যাবে।’

বিসিবি কর্মকর্তার ‘একটু দেরি’ অবশ্য অনেকের চোখে কম দেরি নয়। যেখানে যে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন এ ব্যাপারে বিসিবির আন্তরিকতা নিয়েও। গত জানুয়ারিতে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) বার্ষিক সভায় সাকিব আল হাসান বলেছিলেন, বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ ক্রিকেটার টেস্ট ক্রিকেটকে আর তাঁদের লক্ষ্য হিসেবে দেখেন না।

এমনিতে তেমন টাকাপয়সা নেই, যেটাও পান, সেটিও পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা। সাকিব ভুল বলেননি, বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে তরুণ খেলোয়াড়দের আগ্রহ হবে কী করে!

তাসকিনকে ‘সিক্স প্যাক’ বানাতে বললেন লি

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাসকিন আহমেদের প্রতি মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন ব্রেট লি। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই ফাস্ট বোলার তাসকিনের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহও প্রকাশ করেছিলেন। লির আগ্রহের কথা জেনে তাসকিন জানিয়েছিলেন, তিনি নিজ থেকেই যাবেন সাবেক গতি তারকার সঙ্গে কথা বলতে। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালের আগে সুযোগটা হয়ে গেল দুজনেরই।

অনেকটা সময় নিয়ে কথা হয়েছে দুজনের। লির সঙ্গে কী কথা হলো তাসকিনের? বাংলাদেশ পেসার কাল বলছিলেন, ‘ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপের সময় বোলিং করছিলাম। একটা বাউন্সার উইকেটকিপার লাফ দিয়ে গিয়ে ধরল। ওই সময় পাশ দিয়ে ব্রেট লি যাচ্ছিলেন। ওই বাউন্সার দেখে হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলেন। বেশ খানিকক্ষণ দেখলেন বোলিং। নিজে থেকেই ডেকে কথা বললেন। তখন আমি বললাম, বোলিং নিয়ে আপনার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারি? তো উনি আমাকে কফি খেতে ডেকেছিলেন। অনুশীলন ছিল বলে যেতে পারিনি। ফাইনালের দিন মাঠে দাঁড়িয়ে ১৫-২০ মিনিট কথা বলেছি দুজন।’

ফাইনালের দিন সেই অল্প সময়ের কথায় ব্রেট লি তাসকিনকে বলেছেন ফিটনেসে গুরুত্ব দিতে। নিজেকে প্রস্তুত করতে লির সবচেয়ে বড় অস্ত্র ‘দৌড়ে’র পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানালেন তাসকিন, ‘ওয়েট ট্রেনিংটা কমিয়ে বেশি করে রানিং করতে বলেছেন। আজ (কাল) মিরপুরে অনেকক্ষণ সেটাই করেছি। আর বলেছেন, যা-ই অনুশীলন করি না কেন, সেটার পেছনে যেন উদ্দেশ্য থাকে। মাঝে অ্যাকশন বদল করে, গতি আর লাইন-লেন্থে ছন্দ হারিয়েছি। ব্রেট লিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কী করা উচিত? এ বিষয়েও কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।’

তাসকিনকে আরও একটি পরামর্শ দিয়েছেন লি, ‘তিনি আমাকে বলেছেন, এক বছরের মধ্যে তোমার সিক্স প্যাক দেখতে চাই। এমনিতে আমার ফোর প্যাক আছে। আশা করি ওটাও হয়ে যাবে।’
তাসকিনকে দেওয়া পরামর্শগুলো কাজে লাগল কি না, সেটা জানতে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁজখবর নেবেন বলেও নাকি কথা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই গতিতারকা।

বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সুখবর, স্কটল্যান্ডের বাদ পড়া অন্যায়ও

 এই প্রথম কোনো সহযোগী দল থাকবে না বিশ্বকাপে
• টেস্ট স্ট্যাটাস আছে ১২ দলের, বিশ্বকাপে খেলবে ১০ দল
• আইসিসির এমন নীতিতে ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা বাড়ছেই
কানের পাশ দিয়ে গুলি গিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কাল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টি আইনে ৫ রানে জিতেছে ক্যারিবীয়রা। উইন্ডিজের এমন জয়ে চেপে রাখা শ্বাস ফেলেছেন ক্রিকেটের বিশুদ্ধবাদীরা। যাক, ক্যালিপসো সুরবিহীন একটি বিশ্বকাপ তো দেখতে হচ্ছে না। ক্রিকেটের জন্য সুখবর তো বটেই। কিন্তু অন্যায়ও কি নয়? কাল তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারতেও পারত!

ম্যাচের ফলটা আজ নির্দ্বিধায় বলা যাচ্ছে, ৫ রানে জয়ী হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একটু এদিক-ওদিক হলেই ফলটা লিখতে হতো ডাক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৩ রানে জয়ী স্কটল্যান্ড, ২০১৯ বিশ্বকাপে স্বাগতম!

খুলেই বলা যাক। উইন্ডিজদের ১৯৮ রান তাড়া করতে নেমে ১২৫ রান করে ফেলেছিলেন স্কটিশরা। ৩৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বৃষ্টির জন্য খেলা থামানো হয়, যা আর শুরুই করা যায়নি। বৃষ্টি আইনে সে সময় জয়ের জন্য স্কটল্যান্ডের দরকার ছিল ১৩০ রান। এ কারণেই ৫ রানে হেরেছে স্কটল্যান্ড। অথচ স্কোর কার্ডে উইকেটসংখ্যা ৫-এর বদলে ৪ থাকলেই এ স্কোরেই ৩ রানে বিজয়ী ঘোষণা করা হতো স্কটল্যান্ডকে।

৫ উইকেট না হয়ে ৪ উইকেট হওয়ার কথা কেন আসছে? কথাটা টানতে হচ্ছে, কারণ স্কটল্যান্ডের পঞ্চম ব্যাটসম্যান রিচি বেরিংটন যে ভুল সিদ্ধান্তের শিকার! টপ স্কোরার বেরিংটনকে এলবিডব্লু দিয়েছেন আম্পায়ার। অথচ সে বল পঞ্চম স্টাম্পের লাইনে ছিল। ডিআরএসের ব্যবস্থা না থাকায় সে সিদ্ধান্ত পাল্টানো যায়নি।

স্কটল্যান্ডের সঙ্গে এমন অন্যায় আগের ম্যাচেও হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে আগের ম্যাচ জিতলেই বিশ্বকাপে চলে যেত স্কটিশরা। সে ম্যাচে আইরিশ ব্যাটসম্যান অ্যান্ডি ব্যালবার্নিকে পরিষ্কার এলবিডব্লু দেননি আম্পায়ার। নতুন জীবন পাওয়া ব্যালবার্নি সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা হয়েছেন, দলকেও জিতিয়েছেন। টানা দুই ম্যাচে এভাবে ভুল সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিয়েছে স্কটিশদের।

স্কটিশদের এমন দুর্ভাগ্য অবশ্য আয়ারল্যান্ডের কাজে লাগেনি। আজ জিম্বাবুয়ে নিজেদের ম্যাচ জিতলেই বিশ্বকাপের দুয়ারটা বন্ধ হয়ে যাবে। বিশ্বকাপে বরাবরই দুর্দান্ত খেলা আয়ারল্যান্ড কিংবা গত কয়েক বছর জিম্বাবুয়েকে নাকানি-চুবানি খাওয়ানো আফগানিস্তান কাল মাঠে নামবে শুধু আনুষ্ঠানিকতা মানতে। কারণ, ক্রিকেটের বিশ্বায়নের ব্রত নিয়ে নামা আইসিসি এবার ১০ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে।

২০০৭ বিশ্বকাপে ১৬টি দল খেলেছিল। সুপার এইটের কারণে অহেতুক লম্বা হওয়ায় সে ফরম্যাট ধোপে টেকেনি। ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ১৪তে নেমে আসে। নতুন ফরম্যাটে ম্যাচসংখ্যা একটু কমলেও জমজমাট দুটি বিশ্বকাপ দেখা গিয়েছিল। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া ১০ দলের সঙ্গে সহযোগী ৪ দলের অংশগ্রহণ টুর্নামেন্ট দুটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছিল। দুই টুর্নামেন্টেই সেরা দুই ম্যাচের সঙ্গে জড়িত ছিল সহযোগী দেশগুলো। ফল? আইসিসি এমনই এক নিয়ম করল, যাতে ২০১৯ বিশ্বকাপে সহযোগী কোনো দেশই আর জায়গা করে নিতে না পারে!
সহযোগী দেশের কথা নাহয় বাদই থাক, সদ্য টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানও যে বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে কি না সন্দেহ! যে খেলা টেস্ট খেলে ১২টি দেশ, সে খেলার বিশ্বকাপ হবে কিনা ১০ দলের! এভাবে ক্রিকেটকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে আইসিসি?

বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়। মাত্র দুটি শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য বাছাইপর্ব আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজক হিসেবে ইংল্যান্ডের জায়গা পাকাই ছিল। বাকি ৭ দল র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী আগেই জায়গা পাকা করে রেখেছিল।

আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান কিংবা অন্যান্য সহযোগী দলগুলো বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলারই সুযোগ পায় না। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর আফগানিস্তানকে নিয়মিত খেলতে হয়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনটি করে ওয়ানডে খেলাই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন! আয়ারল্যান্ড সে তুলনায় ভাগ্যবান। ইংল্যান্ড সফরে যাওয়া দলগুলো মাঝেমধ্যে অনুশীলনের জন্য আয়ারল্যান্ডকে বেছে নেয় বলে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া দলগুলোর স্বাদ মাঝেমধ্যেই পেয়েছে তারা। কিন্তু বিশ্বকাপকে একদম হাতের নাগালে পেয়েও যেতে না পারা স্কটল্যান্ডের যে সৌভাগ্যও হয়নি। গত তিন বছরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচই ছিল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ভরসা।

যেখানে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা দলগুলোর সঙ্গে খেলারই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না দলগুলোকে, সেখানে তারা রেটিং বাড়াবে কীভাবে? আর রেটিং না বাড়াতে পারলে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগটাও তারা কীভাবে পাবে?

ফুটবল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কঠিন পরীক্ষা পার হতে হয় বলেই বিশ্বকাপ এতটা জমজমাট হয়ে ওঠে। সব কটি মহাদেশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় বলেই বিশ্বকাপের কয়েকটা সপ্তাহ পুরো বিশ্ব নির্ঘুম থাকে। এবারের বাছাইপর্বে যেমন অংশ নিয়েছে পুরো বিশ্বের ২১০টি দল! সবাই সমান সুযোগ পেয়েছে বাছাইপর্বে। র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা কোনো সুরক্ষা দেয়নি। র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে থেকেও ওয়েলস আর চিলি বিশ্বকাপে জায়গা পায়নি।
এমনিতে তো আর ফিফা গর্ব করে বলতে পারে না, বিশ্বকাপ! সামনে দল আরও বাড়াচ্ছে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপে যেমন মূল পর্বে থাকবে ৪৮টি দল। সেখানে আইসিসি পরিধি আরও কমিয়ে আনছে। দশে মিলে আড্ডা জমানো যায়, বিশ্বকাপ নয়!

আফগান-আইরিশদের বিশ্বকাপ-স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল জিম্বাবুয়ে

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সুপার সিক্সে আরব আমিরাতের কাছে ডি-এলে ৩ রানে হেরেছে জিম্বাবুয়ে।
এই হারে বিশ্বকাপ-স্বপ্ন শেষই হয়ে গেছে জিম্বাবুয়ের।
বৃষ্টিতে না ভেসে গেলে কাল আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ড ম্যাচের জয়ী পেয়ে যাবে বিশ্বকাপ টিকিট।
শন উইলিয়ামস ব্যাটটা কপালে ঠুকলেন! কী করলাম আমি—এমন আফসোস নিয়ে ফিরলেন ড্রেসিংরুমে। ১৮ বলে ২৪ রানের সমীকরণ, উইকেটে ৮০ রানে অপরাজিত উইলিয়ামস। তখনই আউট হয়ে গেলন উইলিয়ামস, জিম্বাবুয়ের আশার বাতিও নিবু নিবু। হারারেতে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৩ রানে হেরে বিশ্বকাপ-স্বপ্ন শেষই হয়ে গেছে জিম্বাবুয়ের।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সুপার সিক্সে নিজেদের শেষ ম্যাচটি হেরে যাওয়ায় আশা বেঁচে রইল আয়ারল্যান্ড-আফগানিস্তানের। কাল আয়ারল্যান্ড-আফগানিস্তানের ম্যাচে যে জিতবে সে চলে যাবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে। ম্যাচটা বৃষ্টিতে ভেসে গেলে আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে রানরেটে যে এগিয়ে থাকবে, তারা পাবে বিশ্বকাপের টিকিট। রানরেটের হিসাব এলেও জিম্বাবুয়ের আশা নেই বললেই চলে। জিম্বাবুয়ের রানরেট যেখানে ০.৪২, আয়ারল্যান্ডের সেখানে ০.৪৭। কাল আয়ারল্যান্ড-আফগানিস্তানের ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলে আইরিশরাই চলে যাবে বিশ্বকাপে। ২০১৯ বিশ্বকাপের ৯ দল এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে। বাকি দল কোনটি, এখন সেটি জানার অপেক্ষায়।

জিম্বাবুয়ে এক প্রকার পায়ে ঠেলেই ইংল্যান্ডের টিকিট হাতছাড়া করেছে। ঘরের মাঠে খেলা। স্বাগতিক দর্শকদের বিপুল উৎসাহ, অনুপ্রেরণার পরও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারাতে পারেনি কাছে গিয়েও পারেনি গ্রায়েম ক্রেমারের দল। চারটি ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংসে ৪৭.৫ ওভারে ২৩৫ রান করেছে আরব আমিরাত। এরপর আসে বৃষ্টি। আরব আমিরাতের ব্যাট করতে আর মাঠেই নামা হয়নি। ইনিংস-সর্বোচ্চ ৫৯ রান রমিজ শাহজাদের। সিকান্দার রাজা নেন ৩ উইকেট।

ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ২৩০। শুরু থেকে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে ব্যর্থ স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। উইলিয়ামস স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বটে, কিন্তু তরিটা তীরে নিতে পারেননি। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫ রান, জিম্বাবুয়ে নিতে পারল ১১ রান। শুধু ম্যাচটা হারের কারণেই নয়, স্বাগতিক দর্শকদের মুখে আঁধার নেমে এল বিশ্বকাপ-স্বপ্নটা ধূসর হয়ে যাওয়ায়। ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম তাহলে বিশ্বকাপ খেলা হবে না জিম্বাবুয়ের!

চিন্তাটা এখন সৌম্য-লিটনদের নিয়ে

নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের সিনিয়র খেলোয়াড়েরা ধারাবাহিক ভালো খেলেছেন।
• সিনিয়রদের সঙ্গে সমানতালে জ্বলে উঠতে পারেননি তরুণেরা।
• এটা ভাবাচ্ছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টকে।
নিদাহাস ট্রফি না জেতার আফসোস নিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। তবে টানা ব্যর্থতার হতাশা নিয়ে যেভাবে সিরিজটা শুরু করেছিল বাংলাদেশ, দিন শেষে নিদাহাস ট্রফিতে প্রাপ্তি নেহাত কম নয়। সিরিজে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, তামিম ইকবাল, রুবেল হোসেন ধারাবাহিক ভালো খেলেছেন—সেটি যেমন স্বস্তির খবর; বিপরীতে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তরুণ খেলোয়াড়দের অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্স।

৫ ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন মুশফিক—৬৬.৩৩ গড়ে ১৯৯ রান। সমান ম্যাচে ৩০.৮০ গড়ে ১৫৪ রান করে ধারাবাহিক ছিলেন তামিমও। কিন্তু সিনিয়রদের সঙ্গে সমানতালে ধারাবাহিক জ্বলে উঠতে পারেননি তরুণ ব্যাটসম্যানরা। সাব্বির রহমান, লিটন দাসদের ব্যাট বিচ্ছিন্নভাবে জ্বললেও, ধারাবাহিকতা ছিল না। সাব্বিরের ব্যাট কথা বলতে ফাইনাল পর্যন্ত সময় নিল। ভারতের বিপক্ষে তাঁর ৭৭ রান যদিও লড়াইয়ের পুঁজি দিয়েছিল বাংলাদেশকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১৪ রান তাড়া করার ম্যাচে লিটনের ১৯ বলে ৪৩ রান বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু পরে আর লিটনের কাছ থেকে এমন দুর্দান্ত ইনিংসের দেখা মিলল না। ভীষণ হতাশ করেছেন ৫ ম্যাচে ৫০ রান করা সৌম্য সরকারও।

তরুণ বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ৭ উইকেট নিয়ে রুবেলের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে শীর্ষে থাকলেও ৮.৮৫ ইকোনমি বলছে, বাঁহাতি পেসারের ওপর কতটা চড়াও হয়েছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। মেহেদী হাসান মিরাজ মাত্র ১ উইকেট পেলেও তাঁর ইকোনমিটাই কিছুটা ভদ্রস্থ, সেটিও ৭.২৫। যে নাগিন উদ্‌যাপন এবার ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে, সেটির আবিষ্কারক নাজমুল ইসলামের খুব একটা সুযোগ হলো না নাচটা নেচে দেখানোর। দেখাবেন কী করে? পুরো সিরিজে ১২ ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৯৪ রান খরচ করে পেয়েছেন মাত্র ১ উইকেট। তাসকিন আহমেদ, আবু হায়দার যে এক-দুই ম্যাচ সুযোগ পেয়েছেন, মেলে ধরতে পারেননি নিজেদের।

গত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সিনিয়রদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণ খেলোয়াড়েরা কেন জ্বলে উঠতে পারছেন না? সিনিয়র-তরুণেরা কাঁধ কাঁধ মিলিয়ে দুর্দান্ত খেলেছিল বলেই তো ২০১৫ সালটা অসাধারণ গিয়েছিল বাংলাদেশের। টিম ম্যানেজমেন্টকেও যে বিষয়টি ভাবাচ্ছে, বোঝা গেল দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের কথায়, ‘এটা নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। কোর্টনি ওয়ালশ হয়তো দু-চার দিনের মধ্যে ফিরবেন ঢাকায়। তখন বসে পরিকল্পনা করা হবে। তরুণ খেলোয়াড়েরা একেবারেই ধারাবাহিক ভালো খেলতে পারছে না। গত কয়েক বছর রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ), মুশফিক, তামিম যেভাবে ভালো করছে, তরুণেরা সেভাবে করতে পারছে না। একটু আগে একজন জানতে চাইল, সামনের সিরিজে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া হবে কি না? নতুন খেলোয়াড় আমরা নিতে পারছি না। যদি লিটন, সাব্বির, সৌম্যর ধারাবাহিকতা থাকত, তাহলে হয়তো দু-একজন খেলোয়াড়কে পরের সিরিজে বিশ্রাম দিতে পারতাম। এটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়।’

যে লজ্জায় ইংল্যান্ড পড়েছে, বাংলাদেশ কখনো নয়


৮ রান অলআউট হয়েছে ইংল্যান্ড।
• এর মাঝে ৩১ রান দশম উইকেটে।

• ২০.৪ ওভার স্থায়ী হয়েছে ইংলিশদের ইনিংস।
নিউজিল্যান্ড দলে বোলার হিসেবেই জায়গা হয়েছে নিল ওয়াগনার ও টড অ্যাস্টলের। কিন্তু আজ ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের পর নির্ঘাত রাগে ফুঁসছেন তাঁরা। এমন ধারা চললে যে চাকরি হারাতে হবে তাঁদের! ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের ‘বদান্যতা’য় আজ বোলিংয়ের সুযোগই পাননি ওয়াগনার-অ্যাস্টল। ট্রেন্ট বোল্ট আর টিম সাউদির সামনেই গুঁড়িয়ে গেছে ইংল্যান্ডের ইনিংস। এর আগে মাত্র ২০.৪ ওভার ব্যাট করেছে ইংল্যান্ড। জবাবে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে প্রথম দিনে ৬৯ ওভার খেলে ফেলেছে নিউজিল্যান্ড। কেন উইলিয়ামসনের অপরাজিত ৯১ রানে এর মাঝেই পেয়ে গেছে ১১৭ রানের লিড।

টেস্ট খেলতে নেমে টি-টোয়েন্টির দৈর্ঘ্যেই কাবু ইংলিশরা! ওয়ানডের বরাদ্দ ৫০ ওভারের অর্ধেকও খেলা হয়নি তাদের। অবশ্য এমন অভিজ্ঞতা নতুন কিছু নয় ক্রিকেটের জনক হিসেবে দাবি করা দেশটির। এ পর্যন্ত পাঁচবার ২৫ ওভারের নিচে অলআউট হয়েছে ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার এ অভিজ্ঞতা হয়েছে ৯ বার। দক্ষিণ আফ্রিকারও হয়েছে ৭ বার ২৫ ওভার খেলতে না পারার অভিজ্ঞতা। অথচ কিছুদিন পরপরই যে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এ দেশগুলো, সেই বাংলাদেশ কিন্তু এখনো এ লজ্জায় পড়েনি।

স্বল্পস্থায়ী ইনিংসের রেকর্ড

বল
রান
ম্যাচ
সাল
৭৫
৩০
দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড
১৯২৪
৯৪
৩০
দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড
১৮৯৬
৯৪
৬১
ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া
১৯০২
৯৯
৫৮
অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড
১৯৩৬
১০২
৪২
ভারত-ইংল্যান্ড
১৯৭৪
* বিভিন্ন সময়ে টেস্টে ওভারের দৈর্ঘ্য ৪, ৫ কিংবা ৮ বল হওয়ায় এখানে ওভার ব্যবহার না করে বলের সংখ্যা দেওয়া হয়েছে। 


সত্যি কথাটা হলো টেস্টে ২৫ ওভারের নিচে অলআউট হওয়ার অভিজ্ঞতা পেতে হয়েছে প্রায় সব দলকে (মোট ৩২ বার)। শুধু জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়েনি। টেস্টে বাংলাদেশ সবচেয়ে কম সময় উইকেটে ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০০৭ সালে কলম্বোর পি সারা ওভালে নিজেদের সর্বনিম্ন ৬২ রানে অলআউট হওয়ার পথে ২৫.২ ওভার খেলেছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড আজ বাংলাদেশের সে ইনিংসের চেয়েও ২৮ বল কম খেলেছে। ব্যবধানটা বড়ও হতে পারত!

আজ অকল্যান্ডে ১৬তম ওভারের চতুর্থ বলে নবম উইকেট হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। দলের রান তখন ২৭। টেস্টের সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার বিশ্ব রেকর্ড মাত্রই এড়িয়েছে দলটি। তবে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়াটা খুবই সম্ভব ছিল। ক্রেইগ ওভারটনের ২৫ বলে ৩৩ রান সে লজ্জা থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে ঠিক, কিন্তু দলের ইনিংসটা খুব বেশি লম্বা করতে পারেনি।

টেস্টে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড এবার তাই ‘হাতছাড়া’ হলো না নিউজিল্যান্ডের। ১৯৫৫ সালে এই অকল্যান্ডেই স্বাগতিকদের ২৬ রানে অলআউট করেছিল ইংল্যান্ড। সে ইনিংসেও কিন্তু নিউজিল্যান্ড ২৭ ওভার উইকেটে কাটিয়েছিল। টেস্টে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার। দুবার ৩০ রানে অলআউট হয়েছে দলটি। এর মাঝে ১৯২৪ সালে বার্মিংহামের ইনিংসটি ছিল ৭৫ বলের। টেস্টের স্বল্পস্থায়ী ইনিংসের সে রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা কেউ কখনো জাগাতে পারেনি।

টেস্টে সর্বনিম্ন ইনিংসের রেকর্ড

রান
বল
ম্যাচ
সাল
২৬
১৬২
নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড
১৯৫৫
৩০
৯৪
দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড
১৮৯৬
৩০
৭৫
দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড
১৯২৪
৩৫
১১৪
দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড
১৮৯৯
৩৬
১৪০
দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া
১৯৩২

বিশ্বকাপ নিশ্চিত হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের

  • ৮ পয়েন্ট পাওয়ায় বিশ্বকাপে জায়গা পাকা করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
  • টানা দুই হারে বিশ্বকাপে যাওয়া হচ্ছে না স্কটল্যান্ডের।
  • কাল জিতলেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত জিম্বাবুয়ের।
  • এই প্রথম কোনো সহযোগী দল ছাড়াই হবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ।

প্রথম দুটি বিশ্বকাপ জয়ী দল, হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে না পারাটাকেও ধরা হয় ক্রিকেটের অন্যতম দুর্ঘটনা হিসেবে। সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে থাকবে না—এও সম্ভব! আজ আরেকটুর জন্য সেটাই হতে যাচ্ছিল। এক পশলা বৃষ্টিই সেটা হতে দেয়নি। বৃষ্টি আইনে স্কটল্যান্ডকে ৫ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কাটল উইন্ডিজরা।
সহজ এক সমীকরণ নিয়ে মাঠে নেমেছিল দুই দল, জিতলেই বিশ্বকাপ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও সেই সুযোগ ছিল স্কটল্যান্ডের। কিন্তু সেই ম্যাচ হেরে বসায় আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরও একবার পরীক্ষায় নামতে হয়েছিল স্কটিশদের। ম্যাচের প্রথমার্ধে ভালোই করেছিল তারা। ২ রান তুলতেই ২ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সে চাপ সামলে নিয়েছিল উইন্ডিজ। এভিন লুইস (৬৬) ও ফর্মে ফেরা মারলন স্যামুয়েলসের (৫১)—দুটি ফিফটিতে ৫ উইকেটে ১৫৮ রান তুলে ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
শেষ ১০ ওভারে পথ হারায় ক্যারিবীয়দের ইনিংস। ৪০ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্কটিশ দুই পেসার শাফায়ান শরিফ ও ব্র্যাড হুইল—দুজনই ৩ উইকেট পেয়েছেন।
রান তাড়ার শুরুটা খুবই বাজে হয়েছে স্কটল্যান্ডের। তৃতীয় ওভারেই ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা কোয়েতজার ফিরে গেছেন। কেমার রোচ (২০/২) ও জ্যাসন হোল্ডারের তোপে ২৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্কটল্যান্ড। চাপে পড়ে রান তোলার গতিটা কখনোই তুলতে পারেনি দলটি। অ্যাশলি নার্সের বলে মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানের ফেরাটাই ম্যাচের ভাগ্য লিখে দিল। ১০৫ রানে ৫ম উইকেট হারায় স্কটল্যান্ড।
এর মধ্যেই আকাশ অন্ধকার হয়ে আসছিল। সাতে নেমে মাইকেল লিস্ক তাই দ্রুত রান তলার চেষ্টা করেছিলেন। ৩৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বৃষ্টি নামায় খেলা বন্ধ করা হয়। তখন বৃষ্টি আইন অনুযায়ী স্কটল্যান্ডের রান ১৩০ হলেই বিজয়ী ঘোষণা করা হতো দলটিকে। কিন্তু স্কটল্যান্ডের স্কোর তখন ছিল ১২৫। ১০ বলে ১৪ রান করেছিলেন লিস্ক। কিন্তু অন্য প্রান্তে মুনসে (৫২ বলে ৩২) সে তালে রান তুলতে পারেননি। ফলে ৫ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপের দৌড় থেকে বাদ পড়ে গেল স্কটল্যান্ড।
আগামীকালই বিশ্বকাপের দশম দল হিসেবে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলতে পারে জিম্বাবুয়ে। সুপার সিক্সে সবার নিচে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারালেই চলবে তাদের। তবে আমিরাত যদি শেষ বেলায় এসে কোনো অঘটন ঘটায়, সে ক্ষেত্রে পরশু দিনটা হয়ে উঠবে মহাগুরুত্বপূর্ণ। সেদিন বাছাইপর্বে মুখোমুখি হবে ৪ পয়েন্ট পাওয়া দুই দল—আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান।

পাকিস্তানে গেলেই ২৫ হাজার ডলার!


পাকিস্তানে গেলেই ২৫ হাজার ডলার!

বোল্ট–সাউদির সামনে ইংল্যান্ড ৫৮!

সুইং আর গতির মিশেলে ভয়ংকর বোল্টের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ইংল্যান্ড। ছবি: এএফপি